দিবারাত্রির কাব্য একটি-
-
ক
উপন্যাস
-
খ
কবিতার বই
-
গ
বাড়ির নাম
-
ঘ
নাটক
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস দিবারাত্রির কাব্য।
তার রচিত পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মা নদীর মাঝি ইত্যাদি উপন্যাস ও অতসীমামী, প্রাগৈতিহাসিক, ছোটবকুলপুরের যাত্রী ইত্যাদি গল্পসংকলন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলে বিবেচিত হয়।
ইংরেজি ছাড়াও তার রচনাসমূহ বহু বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর, মাত্র আটচল্লিশ বছর বয়সে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী এই কথাসাহিত্যিকের জীবনাবসান ঘটে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬)
তিরিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর গল্প ও উপন্যাসগুলোতে স্বতন্ত্র ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্য উজ্জ্বল। বিজ্ঞানমনস্ক এ লেখক মানুষের মনোজগৎ তথা অন্তর্জীবনের রূপকার হিসেবে সার্থকতা দেখিয়েছেন। শরৎচন্দ্র ও কল্লোল গোষ্ঠীর লেখকদের পর বাংলা সাহিত্যে বস্তুতান্ত্রিকতা ও মনোবিশ্লেষণে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় অগ্রগণ্য।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯ মে, ১৯০৮ সালে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস- মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরের মালবদিয়া গ্রাম।
- তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। ডাক নাম মানিক। জন্মপঞ্জিকায় নাম অধরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি প্রথমদিকে ফ্রয়েডীয়, পরবর্তীতে মার্কসিজম মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। মার্কসবাদী ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৪৪ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করে সদস্যপদ লাভ করেন।
- তিনি 'নাবারুণ' পত্রিকার সম্পাদক ও 'বঙ্গশ্রী' পত্রিকার সহসম্পাদক ছিলেন।
- লেখালেখিই ছিল তার প্রধান পেশা ও নেশা। এ জন্য তাকে 'কলম পেশা মজুর' বলা হয়।
- তিনি ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৬ সালে মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম প্রকাশিত গল্প
'অতসী মামী' (১৩৩৫ বঙ্গাব্দ): এটি ডিসেম্বর, ১৯২৮ এবং জানুয়ারি, ১৯২৯ সালে পৌষ সংখ্যা 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ গল্পেই তিনি মানিক নামটি প্রথম ব্যবহার করেছেন। ফলে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছাউনিতে প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় নামটি ঢাকা পড়ে যায়।
মানিকের উপন্যাসসমূহ
'জননী' (১৯৩৫): এটি তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি নারীর জননী-জীবনের নানা স্তর এবং সন্তানের সঙ্গে জননীর সম্পর্কের সূক্ষ্ম মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস। চরিত্র: শ্যামা।
'পদ্মানদীর মাঝি' (১৯৩৬): জেলেদের দৈনন্দিন জীবনের চালচিত্র এর উপজীব্য। চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, হোসেন মিয়া। উর্দু কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের চিত্রনাট্যে ১৯৫৮ সালে এ.জে কারদার পরিচালিত উর্দু ছবি 'জাগো হুয়া সাবেরা' নামে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। এটি নিয়ে গৌতম ঘোষ ১৯৯২ সালে 'পদ্মানদীর মাঝি' নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
'পুতুলনাচের ইতিকথা' (১৯৩৬): মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের গাওদিয়া গ্রামের সাধারণ মানুষ নিয়ে এ উপন্যাসের পটভূমি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে বাঙালি শিক্ষিত মধ্যবিত্তের অন্তর্গত টানাপোড়েন ও অস্তিত্ব সংকট শশী চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশিত। লোকায়ত ভাষায় প্রেম নিবেদন করে কুসুম, কিন্তু শশীর কাছ থেকে সাড়া না পাওয়ায় অর আত্মিক মৃত্যু ঘটে। এ উপন্যাসে বিভিন্ন চরিত্র ক্রিয়ান্ট থাকলেও তারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়াতে পারেনি পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়েছে। এটি মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস। চরিত্র: শশী, কুসুম।
'অমৃতস্য পুত্রা' (১৯৩৮): এটি পারিবারিক ও দাম্পত্র সমস্যামূলক উপন্যাস।
'শহরতলী' (১৯৪০): নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমিকশ্রেণির মানুষে জীবনের কাহিনি ও সেইসাথে প্রবৃত্তির নিরাবরণ প্রকাশ। মানুষের আচরণের বলিষ্ঠতা ও কপটতা, ঈর্ষার রূপায়ণ এ উপন্যাসের মূল সুর।
'অহিংসা' (১৯৪১): মানুষ যে অজ্ঞাতসারে অনেক অহিংস কাজ করে অথবা হিংসার সাথে অহিংসা যে মানুষের ময়ে জড়িত থাকতে পারে, এটি নিয়েই উপন্যাসের কাহিনি বিস্তৃত।
'আরোগ্য' (১৯৫৩): 'সামাজিক কারনেই মানুষ মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়' এ তত্ত্বকে ধারণ করেই তিনি রান করেন এ উপন্যাসটি।
'দিবারাত্রির কাব্য' (১৯৩৫), 'শহরবাসের ইতিকথা (১৯৪৬), 'চিহ্ন' (১৯৪৭), 'চতুষ্কোণ' (১৯৪৮), 'জীয়ন্ত (১৯৫০), 'সোনার চেয়ে দামী' (১৯৫১), 'স্বাধীনতার স্বাদ (১৯৫১), 'ইতিকথার পরের কথা' (১৯৫২), 'হরা (১৯৫৪), 'হলুদ নদী সবুজ বন' (১৯৫৬), 'মাশুল' (১৯৫৬)
'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের পরিচয়:
পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবনকে ভিত্তি করে মামিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন বিখ্যাত উপন্যাস 'পদ্মানদীর মাঝি' (১৯৩৬)। যৌনাকাঙ্ক্ষার সাথে উদরপূর্তির সমসাথ ভিত্তিতে তিনি এ উপন্যাসটি রচনা করেন। উপন্যাসট ১৯৩৪ সাল থেকে সঞ্জয় ভট্টাচার্যের কুমিল্লার 'পূর্বাশ' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। প্রকৃতি ও মানুষের হাতে নির্যাতিত পদ্মা তীরবর্তী কেতুপুর গ্রামের ধীবর সম্প্রদায়ের ছোট ছোট সুখ-দুঃখ, ভালোবাসা, রিরংসা, অসহায়তা ও আত্মরক্ষার তীব্র জৈবিক ইচ্ছার কাহিনি, গরীব মানুষের বেঁচে থাকার আগ্রহ ও সাহস, সেই সাথে হোসেন মিয়াঁ নামক এক রহস্যময় ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি এ উপন্যাসটির মূল বিষয়।
মানিকের গল্পগ্রন্থসমূহ:
'অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প' (১৩৩৫ বঙ্গাব্দ), 'প্রাগৈতিহাসিক' (১৯৩৭), ‘মিহি ও মোটা কাহিনী’ (১৯৩৮), 'সরীসৃপ' (১৯৩৯), 'সমুদ্রের স্বাদ' (১৯৪৩), 'বৌ' (১৯৪৩), 'ভেজাল' (১৯৪৪), 'হলুদ পোড়া' (১৯৪৫), 'আজকাল পরশুর গল্প' (১৯৪৬), 'ছোট বকুলপুরের যাত্রী' (১৯৪৯), 'ফেরিওয়ালা' (১৯৫৩)।
মানিকের অন্যান্য রচনাবলি:
গল্প:
'মাসি-পিসি': গল্পটি কলকাতার 'পূর্বাশা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার পিতৃমাতৃহীন এক তরুণীর করুণ জীবনকাহিনি নিয়ে রচিত গল্প। চরিত্র: আহাদি, মাসি, পিসি, জগু, কৈলাশ, রহমান।
'প্রাগৈতিহাসিক' (চরিত্র: ভিখু, পাঁচি), 'আত্মহত্যার অধিকার', 'মমতাদি' (সরীসৃপ), 'তৈলচিত্রের ভূত' (কিশোর গল্প)।
প্রবন্ধ: 'লেখকের কথা' (১৯৫৭)।
নাটক: 'ভিটেমাটি' (১৯৪৬)।
Related Question
View All'শশী' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
-
ক
পুতুল নাচের ইতিকথা
-
খ
শ্রীকান্ত
-
গ
যোগাযোগ
-
ঘ
আরণ্যক
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস নয়?
-
ক
পদ্মা নদীর মাঝি
-
খ
দিবারাত্রির কাব্য
-
গ
তিতাস একটি নদীর নাম
-
ঘ
পুতুল নাচের ইতিহাস
কোনটি মানিক বন্দোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস?
-
ক
জননী
-
খ
পুতুল নাচের ইতিকথা
-
গ
পদ্মা নদীর মাঝি
-
ঘ
দিবারাত্রির কাব্য
'পুতুলনাচের ইতিকথা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
-
ক
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
-
খ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
গ
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
-
ঘ
সমরেশ মজুমদার
-
ঙ
কোনটিই নয়
কোনটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস নয়?
-
ক
দিবারাত্রির কাব্য
-
খ
পদ্মানদীর মাঝি
-
গ
জোছনা ও জননীর গল্প
-
ঘ
জননী
'পুতুল নাচের ইতিকথা' কার লেখা?
-
ক
সত্যেন সেন
-
খ
আবুল ফজল
-
গ
সৈয়দ আলী আহসান
-
ঘ
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!